বউ ফিরে পেতে স্বামীর সংবাদ সম্মেলন

Satkhiraস্ত্রীকে ফিরে পেতে সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেছেন সাতক্ষীরা পৌরসভার বাটকেখালি এলাকার মিনহাজউদ্দিনের ছেলে আহাজউদ্দিন সুমন।

মঙ্গলবার দুপুরে সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তিনি অভিযোগ করে বলেন, তাদের সংসারে পথের কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে কথিত পীর আবু আয়ুব আনসারী ওরফে জীবন নামের এক ব্যক্তি। নিজের পীরত্ব বজায় রাখতে তাদের সংসারকে বিচ্ছেদের দিকে ঠেলে দিচ্ছেন।

লিখিত বক্তব্যে তিনি আরও বলেন, গরীব পরিবারের ছেলে হওয়ায় সাতক্ষীরা শহরের মুন্সীপাড়ার কথিত পীর আবু আয়ুব আনসারী ওরফে জীবনের দাওয়াখানায় পেটে ভাতে কাজ করতেন। সেখানে একইভাবে কাজ করতেন কুসুম খাতুন নামের একটি মেয়ে। এক পর্যায়ে দাওয়াখানার কথিত পীর আনসারীর মধ্যস্ততায় কুসুমের সঙ্গে সুমনের বিয়ে হয়।

এসময় কথিত এই পীর তাদের দুইজনকেই দাওয়াখানায় থাকতে হবে ও দেনমোহর হবে দেড় লক্ষ টাকা এই শর্তে বিবাহ করিয়ে দেন। তবে উভয়ই সাবালোক না হলেও ব্রহ্মরাজপুরের রেজিস্ট্রার রওশন আলমের সহযোগিতায় ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করেন তিনি।

বিয়ের কিছুদিন পর সেখানে আর থাকতে চায়নি কুসুম। আর এতেই বাধা হয়ে দাঁড়ায় জীবন স্যার। বউমার অনুরোধে সুমনের বাবা তাদের ফিরিয়ে আনতে গেলে জীবন স্যার কুসুমকে না দিয়ে বলে ডিভোর্স লেটার পাঠিয়ে দিব।

এরপর থেকে দীর্ঘ চার মাস আলাদা সুমন ও কুসুম। সুমনের পরিবার অনেক বার চেষ্টা করলেও কুসুমকে আর শ্বশুরালয়ে ফেরাতে পারেনি। কুসুমের বাবার বক্তব্য জীবন স্যার বললেই তারা কুসুমকে শ্বশুরালয়ে পাঠাবে, অন্যাথায় নয়।

এসময় সুমন আবেগাপ্লুত হয়ে বলেন, দুই বছর পর বলে আমি নাকি পাগল। এজন্য আমার কাছে মেয়ে পাঠাতে চায়না কুসুমের আব্বা।

এদিকে, জীবন স্যারের কুপরামর্শে কুসুমের বাবা অজিহার সম্প্রতি ব্র্যাকে তার মেয়ের দেনমোহর আদায়ে আবেদন করেছে। সংবাদ সম্মেলনে স্ত্রীকে ফিরে পেতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন সুমন।

তবে কথিত পীর আবু আয়ুব আনসারী বলেন, আমি এ বিষয়ে কিছু বলতে পারবো না। কুসুমের আব্বার সঙ্গে কথা বলেন।

Pin It